তারা পরিচিতি: Polaris/ধ্রুবতারা – Chapter 1.0 & 1.1

স্বাগতম। তুলনামূলক কম আলোক দূষিত অঞ্চলে সন্ধ্যা নামলেই আকাশে বিভিন্ন তারাকে মিটমিট করে জ্বলতে দেখা যায়। এগুলো আসলে কী? তারা জিনিসটাই বা কী? হয়ত এ সম্পর্কে আগেই ব্যাখা জেনে গিয়েছেন, তবুও একটু ব্রিফ এক্সপ্লেন্যাশন দিই। 


তারা কী?

তারা আসলে একধরণের গোলাকার বস্তুপিণ্ড। অনেকে যদিও তারা এবং নক্ষত্রকে এক করে ফেলে তবুও গভীরভাবে দেখতে গেলে দুটো জিনিস এক না, আবার একই! কীভাবে? আসুন দেখি। নক্ষত্র হল সেসব তারা, যাদের নিজস্ব আলো আছে। এরা নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া করে আলোকশক্তি উৎপন্ন করে যেমন: সূর্য৷ আকাশে আমরা বিভিন্ন গ্রহকেও মাঝেমধ্যে আলোকবিন্দুর মত করে মিটমিট করে জ্বলতে দেখি। সেগুলো কিন্তু নক্ষত্র না। যেমন: শুক্র গ্রহ যাকে আমরা শুকতারা হিসাবেও চিনি। কাজেই বলা যায় সব নক্ষত্রই তারা কিন্তু সব তারা নক্ষত্র না। এত বেশি কমপ্লিকেটেড করে ভাবতে হবে না, ইট ইজ অ্যাজ সিম্পল অ্যাজ দ্যাট! পরবর্তী সকল ক্ষেত্রে আমি তারা শব্দটাই ব্যবহার করব। কেননা এটিই সর্বজনীন।


তারা কেন মিটমিট করে জ্বলে?

তারা মিটমিট করে জ্বলে না, আলোর প্রতিসরণের কারণে আসলে আমরা তারাকে ওভাবে মিটমিট করে জ্বলতে দেখি। আলো যখন একটি মাধ্যম থেকে ভিন্ন অন্য একটি মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন তার গতিপথে পরিবর্তন আসে। অর্থাৎ কিছুটা বেঁকে যায়। তারা থেকে আলো যখন পৃথিবী তে আসে তখন বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন রকম তাপ, ঘনত্বের গ্যাস পেরিয়ে আসতে হয়। এই ঘনত্বের তারতম্যের কারণে রিপিটেডলি তারা থেকে আগত আলোর গতিপথের পরিবর্তন ঘটে। এবং আলোকে বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পাই, যেটিকেই আসলে আমরা দেখি মিটমিট করে জ্বলা হিসাবে।

তো যাই হোক, রাতের আকাশে তাকালে অসংখ্য তারা দেখা যায়। তবে সবচেয়ে দৃশ্যমান যেগুলো সেগুলো নিয়েই আজকের চ্যাপ্টার। দৃশ্যমান যেসকল তারা আছে যেমন: ক্যাপেলা, প্রোসায়ন, সিরিয়স, পোলারিস, ক্যাস্টর, ভেনাস, আলদিবারান  ইত্যাদি। এসব তারার মধ্যে আজকে যে তারা সম্পর্কে আলোচনা করব সেটি হচ্ছে পোলারিস।




পোলারিস / ধ্রুবতারা

ধ্রুবতারা সম্পর্কে অথবা এ শব্দটি শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর বলাই চলে। ধ্রুবতারা অবস্থান করে উত্তর দিকে। দ্য লেসার বিয়ার (Lesser Bear) / Ursa Minor / শিশুমার (লঘু সপ্তর্ষি মণ্ডল) এর সবচাইতে উজ্জ্বল নক্ষত্র হচ্ছে পোলারিস বা ধ্রুবতারা। পৃথিবীর পৃষ্ঠে অবস্থানকারী ধ্রুবতারাকে উত্তর দিকে দেখতে পায়। একে নর্থ পোল স্টারও বলা হয় এই কারণে। সময়ের সাথে সাথে আকাশের অন্যান্য তারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন(১) করলেও ধ্রুবতারা উত্তরেই একই স্থানে অবস্থিত থাকে। এর নিজের অবস্থান পরিবর্তন না হওয়ার কারণেই একে ধ্রুবতারা বলা হয়।

[১. আসলে তারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে না। আদতে পৃথিবীর ঘুর্ণনের কারণে আমরা তারা কে পুর্ব থেকে পশ্চিম দিকে সড়ে যেতে দেখি। ]


আসুন জেনে নিই ধ্রুবতারা সম্পর্কে কিছু তথ্য

ধ্রুবতারা হছে শেফালি বিষম তারা। বিষম তারা হচ্ছে সেসব তারা  যাদের উজ্জ্বলতা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। এর অ্যাপারেন্ট ম্যাগ্নিটিউড (আপাত ঔজ্জ্বল্য) হচ্ছে ১.৯৮ (যা ১.৮৬ থেকে ২.১৩ পর্যন্ত পরিবর্তন হতে পারে)।  তারার উজ্জ্বলতার শ্রেণিবিভাগ অনুসারে শ্রেণিসংখ্যা(২) যত কম, উজ্বলতা তত বেশি। ধ্রুবতারার শ্রেণিসংখ্যা কম বিধায় একে রাতের আকাশে কিছুটা উজ্জ্বল দেখায়। এটি আকাশের ৪৮ তম উজ্জ্বল তারা এবং সূর্য থেকে ধ্রুবতারা প্রায় ১৩০০ গুণ বেশি উজ্জ্বল! এর ভর সূর্যের প্রায় ৬গুণ এবং ব্যাসার্ধ সূর্যের ব্যাসার্ধের তুলনায় ৩৭.৫ গুণ বেশি। এত বড় এবং উজ্জ্বল হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী থেকে ধ্রুবতারা প্রায় ৪০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত হওয়ায় একে তত বেশি উজ্জ্বল দেখায় না।

[ ২. শ্রেণিসংখ্যা নিয়ে পরবর্তী চ্যাপ্টারে আলোচনা করব। ]

ধ্রুবতারা হচ্ছে একটি ট্রিপল স্টার সিস্টেম, বা তিনটি তারার সিস্টেম। অর্থাৎ তিনটি তারার সমন্বয়ে গঠিত। তবে মূল ধ্রুবতারা অর্থাৎ Alpha Ursae Minoris Aa -এর আপাত ঔজ্জ্বল্য বেশি কীংবা শ্রেণিসংখ্যা কম হওয়ায় একে অন্য দুটি তারা থেকে বেশি উজ্জ্বল দেখায়। অন্য দুটি তারা হচ্ছে Alpha Ursae Minoris Ab এবং Alpha Ursae Minoris B. Alpha Ursae Minoris Ab এর অ্যাপারেন্ট ম্যাগ্নিটিউড ৯.২ এবং Alpha Ursae Minoris B এর অ্যাপারেন্ট ম্যাগ্নিটিউড ৮.৭। কাজেই বোঝা যাচ্ছে এই দুই বেচারা খুব একটা উজ্জ্বল না। আহারে!




কেন ধ্রুবতারার অবস্থানের পরিবর্তন হয় না?

ধ্রুবতারার অবস্থানের পরিবর্তন কেন হয় না এই বিষয়ে বিস্তারিত বলতে গেলে অনেক বড় আকারে লিখা লাগবে। এবং এর গাণিতিক বিশ্লেষণ আরো বেশি সুন্দর। তবে এতটুকু ধারণা মোটামুটি স্বচ্ছ ধারণা দেয় যে ধ্রুবতারা এবং পৃথিবীর মধ্যবর্তী দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় পৃথিবীর কক্ষপথের গতি এবং বার্ষিক গতির কারণেও ধ্রুবতারাকে একই স্থানে স্থির মনে হয়। ইচ্ছা আছে এ নিয়ে পরবর্তীতে অনেক বড় করে লিখার।



আশা করি কিছুটা তথ্য দিতে পেরেছি পোলারিস/ধ্রুবতারা সম্পর্কে। অন্যান্য বিষয়াদি সম্পর্কে লিখতে গিয়ে অনেক বড় হয়ে গিয়েছে টপিকটি সে জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। পরবর্তী চ্যাপ্টারে অন্য একটি তারা এবং ঔজ্বল্য নিয়ে আলোচনা করব। এতক্ষণ সময় নিয়ে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। মহাজাগতিক ভালোবাসা রইল।

Also Read

6 comments

  1. Tesla
  2. Tesla
    Damn, new string looks good!
  3. kadeenpackwood
    Woori Casino - 400FREENODEPOSITPAINT!WooriCasinooffersmorethan150casinogames,fromprogressiveslotsto1xbettablegames,videopokerandbingo.Joinnowtow88getupto400 메리트 카지노 도메인 free on your 우리 카지노 더킹 first
  4. This comment has been removed by a blog administrator.